সূচিপত্র (Content Index)
১. মূল প্রবন্ধ: পৃথিবীর উৎপত্তি ও গঠন
ভূমিকা: মহাবিশ্ব সৃষ্টি নিয়ে মানুষের আদিম ধারণা ও লোকগাথা (যেমন: প্রাচীন চীনের রূপকথা)।
মহাবিশ্ব ও পৃথিবীর উৎপত্তি: মহাবিস্ফোরণ তত্ত্ব (১৩.৭ বিলিয়ন বছর পূর্বে), মহাবিশ্ব সম্প্রসারণ ও পৃথিবীর জন্ম (৪.৫ বিলিয়ন বছর পূর্বে)।
সূর্য, পৃথিবী ও চন্দ্রের পরিচয়:
O মিল্কিওয়ে ছায়াপথ ও কেন্দ্রীয় নক্ষত্র হিসেবে সূর্যের বৈশিষ্ট্য।
o গ্রহ হিসেবে পৃথিবী ও সূর্যের ওপর নির্ভরতা।
o পৃথিবীর উপগ্রহ চাঁদ, চাঁদের গতি ও আয়তনের তুলনা।
পৃথিবীতে জীবের উপযোগী পরিবেশের বিকাশ: আদিম উত্তপ্ত অবস্থা থেকে পৃথিবীর শীতলীকরণ, মহাসমুদ্রের উদ্ভব ও অক্সিজেনের বিকাশ।
আমাদের বাসভূমি পৃথিবীর সামগ্রিক গঠন:
o বায়ুমণ্ডল: ট্রপোস্ফিয়ার (১২ কিমি) ও স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার (ওজোন স্তরের ভূমিকা)।
o ভূপৃষ্ঠ: জলভাগ ও স্থলভাগের অনুপাত এবং নদী সৃষ্টির কারণ।
পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ গঠন: শিলামণ্ডল, গুরুমণ্ডল ও কেন্দ্রমণ্ডলের গভীরতা ও উপাদানগত বৈশিষ্ট্য।
প্লেট টেকটোনিক, আগ্নেয়গিরির উদগীরণ ও ভূমিকম্প: প্লেটের স্থানান্তর, ঘর্ষণ, ম্যাগমা থেকে লাভার উদগীরণ ও ভূমিকম্পের কারণ।
ভূ-ত্বক, মাটির গঠন ও খনিজ সম্পদ:
O শিলা ভেঙে মাটি তৈরির দুই পর্যায় ও হিউমাসের গুরুত্ব।
o অজৈব খনিজ পদার্থ (চুনাপাথর, লোহা ইত্যাদি) বনাম জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, পেট্রোলিয়াম, গ্যাস)।
উপসংহার: পৃথিবীর ভারসাম্য ও মানবজীবনে এর গুরুত্ব।
২. সৃজনশীল প্রশ্ন (CQ Bank - ৫টি প্রশ্ন)
সৃজনশীল ১: মহাবিশ্বের মহাবিস্ফোরণ, পৃথিবীর শীতলীকরণ ও জীবের বাসের উপযোগী পরিবেশ।
সৃজনশীল ২: পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ তিনটি মূল স্তর এবং কেন্দ্র ও গুরুমণ্ডলের বৈশিষ্ট্য।
সৃজনশীল ৩: টেকটোনিক প্লেটের গতিবিধি, ভূমিকম্পের মেকানিজম ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত (ম্যাগমা বনাম লাভা)।
সৃজনশীল ৪: কঠিন শিলা বিচূর্ণীভবন, মাটি গঠন প্রক্রিয়া ও হিউমাসের কৃষিভিত্তিক গুরুত্ব।
সৃজনশীল ৫: ভূগর্ভস্থ সম্পদের শ্রেণিবিভাগ—অজৈব খনিজ পদার্থ এবং জৈব জীবাশ্ম জ্বালানির তুলনামূলক বিশ্লেষণ।
৩. বহুনির্বাচনি প্রশ্নাবলি (MCQ Bank - ২০টি প্রশ্ন)
প্রশ্ন ১–৪: মহাবিস্ফোরণের সময়কাল, রূপকথা, পৃথিবীর সৃষ্টি এবং মহাবিশ্ব সম্প্রসারণের প্রমাণ।·
প্রশ্ন ৫–৮: সূর্যের গ্যাসীয় সংযোজন, সূর্য ও চাঁদের আকার-আয়তনের তুলনা এবং আবর্তনকাল।
প্রশ্ন ৯–১১: বায়ুমণ্ডলের ওজোন স্তর, ট্রপোস্ফিয়ারের ব্যাপ্তি এবং ভূপৃষ্ঠের জলভাগের পরিমাণ।
প্রশ্ন ১২–১৬: শিলামণ্ডলের গভীরতা, কেন্দ্রমণ্ডলের ধাতুসমূহ, গুরুমণ্ডলের ম্যাগমা এবং প্লেটের অবস্থান।প্রশ্ন
১৭–২০: মাটির হিউমাস, চুনাপাথরের রাসায়নিক নাম ও উৎস এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার।
৪. সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ - ১০টি প্রশ্ন)
FAQ ১: মহাবিশ্ব ও পৃথিবী সৃষ্টির মূল বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া।
FAQ ২: উত্তপ্ত পৃথিবী থেকে জীবন ধারণের উপযোগী পরিবেশে উত্তরণ।
FAQ ৩: সূর্য, পৃথিবী ও চন্দ্রের পারস্পরিক সম্পর্ক ও পার্থক্য।
FAQ ৪: বায়ুমণ্ডলের ট্রপোস্ফিয়ার ও স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের কাজ ও গুরুত্ব।
FAQ ৫: ভূপৃষ্ঠের নদী ও জলভাগের উৎপত্তি। ·
FAQ ৬: শিলামণ্ডল, গুরুমণ্ডল ও কেন্দ্রমণ্ডলের গঠন ও তাপমাত্রা।·
FAQ ৭: প্লেট টেকটোনিক তত্ত্বের কার্যপ্রণালী।·
FAQ ৮: ভূমিকম্প ও লাভা অগ্ন্যুৎপাতের বৈজ্ঞানিক কারণ।·
FAQ ৯: শিলা থেকে উর্বর মাটি তৈরির পর্যায় ও হিউমাসের ভূমিকা।·
FAQ ১০: খনিজ পদার্থ ও জীবাশ্ম জ্বালানির মধ্যে মৌলিক পার্থক্য।
ভূমিকা
হাজার হাজার বছর ধরে মানুষ চিন্তা করেছে কীভাবে আমাদের এই পৃথিবী এবং সমগ্র মহাবিশ্ব সৃষ্টি হয়েছে। মানব সমাজের আদিকাল থেকেই এ নিয়ে প্রচলিত রয়েছে নানা রূপকথা, পৌরাণিক কাহিনী ও লোকবিশ্বাস। যেমন, প্রাচীন চীনের একটি লোকগাথায় বলা হতো—এক বিশাল ডিম থেকে প্রথমে একটি দৈত্য জন্ম নেয় এবং পরবর্তীতে সেই দৈত্যের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ থেকেই মহাবিশ্বের সবকিছুর জন্ম হয়। তবে আধুনিক বিজ্ঞান কেবল কল্পনার ওপর নির্ভর করে না; বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা, পর্যবেক্ষণ ও তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে মহাবিশ্ব ও পৃথিবীর উৎপত্তি এবং এর অভ্যন্তরীণ গঠন সম্পর্কে যুক্তিগ্রাহ্য ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেছেন। আজ বিজ্ঞানীদের কাছে পৃথিবীর সৃষ্টি ও পরিবর্তনের এই ধারাটি বহুলাংশে স্পষ্ট।
মহাবিশ্ব ও পৃথিবীর উৎপত্তি
তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আধুনিক বিজ্ঞানীদের সিংহভাগ একটি সুনির্দিষ্ট তত্ত্বকে মহাবিশ্ব সৃষ্টির ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেন, যা ‘মহাবিস্ফোরণ তত্ত্ব’ বা ‘বিগ ব্যাং তত্ত্ব’ (Big Bang Theory) নামে সুপরিচিত। বিজ্ঞানীদের ধারণা অনুযায়ী, আজ থেকে প্রায় ১৩৭০ কোটি বা ১৩.৭ বিলিয়ন বছর পূর্বে সমগ্র মহাবিশ্ব একটি অত্যন্ত ক্ষুদ্র, অসীম ঘনত্বের এবং প্রচণ্ড উত্তপ্ত বিন্দুভরে ঘনীভূত অবস্থায় কেন্দ্রীভূত ছিল। হঠাৎ করেই সেই বিন্দুভরে এক প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ঘটে, যাকে বলা হয় ‘মহাবিস্ফোরণ’।
মহাবিস্ফোরণের পরপরই অতিক্ষুদ্র পদার্থ কণা সৃষ্টি হয়। কালক্রমে সেই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণাগুলো ধীরে ধীরে ঠান্ডা হতে থাকে এবং পরস্পরের সাথে একত্রিত ও ঘনীভূত হয়ে বিভিন্ন জ্যোতিষ্কে (নক্ষত্র, ছায়াপথ ইত্যাদি) রূপান্তরিত হয়। একদিকে কণাগুলো মিলেমিশে নানা মহাজাগতিক বস্তুর সৃষ্টি হচ্ছিল, অন্যদিকে মহাবিশ্ব ক্রমেই চারদিকে প্রসারিত হতে থাকে। এর সপক্ষে একটি বড় প্রমাণ হলো—আজও মহাবিশ্ব ক্রমাগত প্রসারিত হচ্ছে; গ্যালাক্সি ও তারাসমূহ পরস্পরের থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।
বিজ্ঞানীদের ধারণা মতে, আমাদের সৌরজগতের কেন্দ্রীয় নক্ষত্র সূর্য যখন সৃষ্টি হয়েছিল, তখন যে ধূলিকণা ও গ্যাসীয় উপাদান থেকে সূর্যের জন্ম হয়, তার কিছু অবশিষ্ট অংশ মহাকাশে ভেসে বেড়াচ্ছিল। পরবর্তীতে, আজ থেকে প্রায় সাড়ে চার বিলিয়ন (৪৫০ কোটি) বছর পূর্বে সেই ভেসে বেড়ানো ধূলিকণা ও গ্যাস মহাকর্ষ বলের প্রভাবে একত্রিত ও পুঞ্জীভূত হয়ে আমাদের পৃথিবী নামক গ্রহটি সৃষ্টি করে।
সূর্য, পৃথিবী ও চন্দ্রের পরিচয়
আমরা যে সৌরজগতে বাস করি, তা মূলত মিল্কিওয়ে (Milky Way) বা ‘আকাশ গঙ্গা’ নামক ছায়াপথের অন্তর্ভুক্ত একটি ক্ষুদ্র অংশ।
সূর্য: আমাদের সৌরজগতের কেন্দ্রবিন্দু হলো সূর্য। সূর্য একটি নক্ষত্র, কারণ এর নিজস্ব আলো ও উত্তাপ রয়েছে। মূলত এটি একটি জলন্ত গ্যাসীয় পিণ্ড। এতে মূলত হাইড্রোজেন ও অন্যান্য গ্যাস মহাকর্ষ বলের প্রভাবে একসঙ্গে যুক্ত থাকে। হাইড্রোজেন গ্যাস পরস্পরের সঙ্গে নিউক্লীয় প্রক্রিয়ায় যুক্ত হওয়ার সময় বিপুল পরিমাণে তাপ ও আলো নির্গত হয়, যা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। সূর্য পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে প্রায় তেরো লক্ষ গুণ বড় এবং এর ব্যাসার্ধ পৃথিবীর ব্যাসার্ধের প্রায় ১০৯ গুণ। সূর্য যদি একটি প্রমাণ সাইজের ফুটবলের সমান হয়, তবে পৃথিবী হবে তার তুলনায় মাত্র একটি বালুকণার সমান!
পৃথিবী: সূর্যকে কেন্দ্র করে আবর্তিত আটটি গ্রহের মধ্যে পৃথিবী একটি বিশেষ গ্রহ। পৃথিবীর আকৃতি গোলকের মতো। এটি সূর্যের মতো নিজস্ব আলো বা তাপ উৎপাদন করতে পারে না। তাই আলো ও উত্তাপের জন্য পৃথিবীকে সম্পূর্ণরূপে সূর্যের ওপর নির্ভর করতে হয়। সূর্যের আলো দিয়ে উদ্ভিদ খাদ্য তৈরি করে এবং সেই খাদ্যের ওপর নির্ভর করেই পৃথিবীর সমগ্র প্রাণীকুল বেঁচে রয়েছে।
চন্দ্র: চাঁদ হলো পৃথিবীর একমাত্র প্রাকৃতিক উপগ্রহ। চাঁদের নিজস্ব কোনো আলো নেই। সূর্যের আলো চাঁদের পৃষ্ঠে পড়ে প্রতিফলিত হওয়ার ফলেই আমরা রাতে চাঁদকে আলোকিত দেখি। চাঁদ প্রায় ২৭ দিন ৮ ঘণ্টায় একবার পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে। আয়তনের দিক থেকে চাঁদ পৃথিবীর আয়তনের প্রায় পঞ্চাশ ভাগের এক ভাগ মাত্র।
পৃথিবীতে জীবের উপযোগী পরিবেশের বিকাশ
সৃষ্টির শুরুতে আমাদের পৃথিবী বর্তমান রূপের মতো সুশীতল ও শান্ত ছিল না। তখন পৃথিবী ছিল অত্যন্ত উত্তপ্ত এবং এর পৃষ্ঠদেশ লাভা ও গলিত পদার্থের উত্তাপে টগবগ করে ফুটত। সেই আদিম উত্তপ্ত পৃথিবীতে জীবের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় তরল পানি কিংবা শ্বাস নেওয়ার মতো মুক্ত অক্সিজেন ছিল না।পরবর্তীতে কোটি কোটি বছর ধরে পৃথিবী তার তাপ মহাশূন্যে বিকিরণ করে ধীরে ধীরে শীতল হতে শুরু করে। ঠান্ডা হওয়ার প্রক্রিয়ায় ভারী পদার্থগুলো ভারী হওয়ার কারণে ধীরে ধীরে নিচের দিকে অর্থাৎ পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে চলে যায়। আর অপেক্ষাকৃত হালকা উপাদান ও গ্যাসীয় পদার্থগুলো ওপরের দিকে উঠে এসে পৃথিবীপৃষ্ঠ ঘিরে ফেলে। কার্বন ডাই-অক্সাইড, জলীয়বাষ্প, মিথেন, কার্বন মনোক্সাইড ইত্যাদি গ্যাসের মিশ্রণে তৈরি হয় আদিম বায়ুমণ্ডল। পৃথিবী আরও শীতল হলে বায়ুমণ্ডলের জলীয়বাষ্প ঘনীভূত হয়ে তরল বৃষ্টিরূপে পতিত হয় এবং তা থেকে সৃষ্টি হয় মহাসমুদ্র। কালক্রমে বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেন ও নাইট্রোজেনের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। অনুকূল তাপমাত্রা, তরল পানি ও প্রাণধারণের উপযোগী গ্যাসীয় পরিবেশের সংমিশ্রণেই পৃথিবীতে একসময় প্রাণের উৎপত্তি ও বিকাশ ঘটে।
আমাদের বাসভূমি পৃথিবীর সামগ্রিক গঠন
পৃথিবীর বাহ্যিক ও সামগ্রিক কাঠামো প্রধানত তিনটি প্রধান অংশে বিভক্ত:
1. বায়ুমণ্ডল: পৃথিবীর সবচেয়ে বাইরের হালকা গ্যাসীয় আবরণ।
2. ভূপৃষ্ঠ: পৃথিবীর ওপরের কঠিন পৃষ্ঠভাগ বা ত্বক।
3. অভ্যন্তরীণ অংশ: ভূপৃষ্ঠের নিচের গভীর অংশ, যা অত্যন্ত ভারী পদার্থ দ্বারা গঠিত।
১. বায়ুমণ্ডল
যে বায়বীয় স্তরটি পৃথিবীর পুরো পৃষ্ঠভাগকে চাদরের মতো ঘিরে রেখেছে, তাকে বায়ুমণ্ডল বলে। পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ টানের ফলেই বায়ুমণ্ডলের গ্যাসগুলো ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি অবস্থান করে এবং ভূপৃষ্ঠের নিকটবর্তী অঞ্চল অধিক ঘন থাকে। ভূপৃষ্ঠ থেকে যত ওপরে যাওয়া যায়, বাতাস ততই হালকা ও পাতলা হতে থাকে। বায়ুমণ্ডল প্রধানত নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন গ্যাস দ্বারা গঠিত; এছাড়াও এতে জলীয়বাষ্প, ধূলিকণা, আর্গন ও কার্বন ডাই-অক্সাইড রয়েছে।
বায়ুমণ্ডলের স্তরবিন্যাস:
ট্রপোস্ফিয়ার: ভূপৃষ্ঠ থেকে ওপরের দিকে প্রায় ১২ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত স্তরকে ট্রপোস্ফিয়ার বলা হয়। বায়ুমণ্ডলের অধিকাংশ গ্যাস, ধূলিকণা ও মেঘ এই স্তরেই অবস্থান করে।
স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার: ট্রপোস্ফিয়ারের ঠিক ওপর থেকে শুরু হয়ে প্রায় ৫০ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত স্তরটি হলো স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার। এই স্তরে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ‘ওজোন’ গ্যাসের স্তর, যা সূর্যের ক্ষতিকর ও বিপজ্জনক অতিবেগুনি রশ্মি (UV rays) শোষণ করে পৃথিবীকে রক্ষা করে।
২. ভূপৃষ্ঠ
আমরা যে কঠিন পৃষ্ঠতলে বসবাস করি, তাই হলো ভূপৃষ্ঠ। পৃথিবীর মোট ভূপৃষ্ঠের চার ভাগের প্রায় তিন ভাগই পানিতে ঢাকা (জলভাগ) এবং মাত্র এক ভাগ শুকনো মাটি ও পাথর দ্বারা গঠিত (স্থলভাগ)। বিশ্বের বিশাল বিশাল মহাসাগর (প্রশান্ত, আটলান্টিক, ভারত, উত্তর ও দক্ষিণ মহাসাগর) ভূপৃষ্ঠের সিংহভাগ জুড়ে বিস্তৃত। পর্বতের চূড়ায় জমে থাকা বরফ এবং বৃষ্টির পানি ঢাল বেয়ে নদী সৃষ্টি করে এবং পরিশেষে সাগরে পতিত হয়।
পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ গঠন
পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ গঠনকে প্রধানত তিনটি স্তরে ভাগ করা যায়:
|
স্তরের নাম
|
অবস্থান ও বিস্তার
|
গঠন উপাদান ও বৈশিষ্ট্য
|
|
শিলামণ্ডল
|
ভূপৃষ্ঠের নিচে প্রায় ৭০ কিমি পর্যন্ত বিস্তৃত।
|
কঠিন শিলা ও মাটি দ্বারা গঠিত তুলনামূলকভাবে শীতল স্তর।
|
|
গুরুমণ্ডল
|
শিলামণ্ডলের নিচে এবং কেন্দ্রমণ্ডলের ওপরের স্তর।
|
বেশিরভাগ অংশ কঠিন হলেও এর কিছু অংশ আধা-গলিত অবস্থায় থাকে। আগ্নেয়গিরির লাভা মূলত এখান থেকেই উৎসারিত হয়।
|
|
কেন্দ্রমণ্ডল
|
পৃথিবীর কেন্দ্রবিন্দু থেকে প্রায় ২৯০০ কিমি ব্যাসার্ধ বিশিষ্ট গোলকাকার কেন্দ্র।
|
এটি নিকেল, লোহা, সীসা ইত্যাদি ভারী ধাতু দ্বারা গঠিত। কেন্দ্রের ভেতরের অংশ কঠিন হলেও বাইরের অংশ অত্যন্ত তাপে গলিত তরল অবস্থায় রয়েছে।
|
পৃথিবী যখন ধীরে ধীরে ঠান্ডা হয়েছিল, তখন বাইরের অংশ থেকে তাপ সহজে বিকিরিত হয়ে ভূপৃষ্ঠ শীতল হলেও কেন্দ্রের গভীর অভ্যন্তরীণ অঞ্চল থেকে তাপ বের হতে পারেনি, যার ফলে কেন্দ্রমণ্ডল ও গুরুমণ্ডল আজও অত্যন্ত উত্তপ্ত রয়েছে।
প্লেট টেকটোনিক, আগ্নেয়গিরির উদগীরণ ও ভূমিকম্প
পৃথিবীর শিলামণ্ডল একটি অখণ্ড স্তর নয়, বরং এটি একাধিক শক্ত খণ্ডে বিভক্ত, যেগুলোকে ভূ-ত্বকীয় প্লেট (Plates) বলা হয়। এই প্লেটগুলো নিচের গুরুমণ্ডলের আধা-গলিত ও তরল স্তরের ওপর অত্যন্ত ধীরগতিতে ভাসমান অবস্থায় থাকে। ভূ-অভ্যন্তরীণ তাপপ্রবাহের কারণে প্লেটগুলো প্রতি বছর কোনো একদিকে কয়েক সেন্টিমিটার সরে যায়; কখনও একে অপরের থেকে দূরে সরে যায়, কখনও কাছাকাছি আসে, আবার কখনও সামান্য ওপরে ওঠে বা নিচে নামে।
আগ্নেয়গিরির উদগীরণ: যখন দুটি টেকটোনিক প্লেট পরস্পরের সাথে ঘষা খায় বা ধাক্কা খায়, তখন তাদের সংযোগস্থলে প্রচণ্ড তাপ ও চাপের সৃষ্টি হয়। এই তাপে ভূ-অভ্যন্তরের কঠিন শিলা গলে তরলে পরিণত হয়, যাকে ম্যাগমা বলা হয়। ম্যাগমা অত্যন্ত চাপের কারণে ভূপৃষ্ঠের ফাটল বা দুর্বল স্থান ভেদ করে বাইরে প্রচণ্ড বেগে বেরিয়ে আসে। বাইরে বেরিয়ে আসা এই গলিত তরল পদার্থকে লাভা বলা হয়।
ভূমিকম্প: ভূ-ত্বকীয় প্লেটগুলো যখন পরস্পরের সাথে সজোরে ধাক্কা খায় বা পিছলে যায়, তখন সেই প্রবল ঘর্ষণে সমগ্র পৃথিবী কেঁপে ওঠে। এই ভূ-কম্পনকেই আমরা ভূমিকম্প বলি। বিশেষ করে যেসব প্লেটের সংযোগস্থলে উঁচু পর্বত রয়েছে, সেখানে ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির উদগীরণের প্রকোপ বেশি দেখা যায়।
ভূ-ত্বক, মাটির গঠন ও খনিজ সম্পদ
১. ভূ-ত্বক ও মাটির গঠন
শিলামণ্ডলের একেবারে উপরিভাগের পাতলা স্তরটিকে ভূ-ত্বক বলা হয়। ভূ-ত্বক পানি, পাথর ও নরম মাটি দ্বারা আবৃত। কঠিন শিলা সাধারণত দুটি পর্যায়ের মাধ্যমে ভেঙে নরম ও উর্বর মাটিতে রূপান্তরিত হয়:
প্রথম পর্যায়: রোদ, বৃষ্টি, ঝড়, বায়ুপ্রবাহ ও ভূমিকম্পের ফলে কঠিন শিলা দীর্ঘদিন ধরে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র শিলাকণায় পরিণত হয়।
দ্বিতীয় পর্যায়: এই ক্ষুদ্র শিলাকণার সাথে পানি, বায়ু, অনুজীব (যেমন ব্যাক্টেরিয়া) এবং গাছপালা ও প্রাণীর পচা দেহাবশেষ বা জৈব পদার্থ মিশ্রিত হয়ে পূর্ণাঙ্গ মাটি গঠন করে।
মাটির উপরের স্তরে মৃত উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহাবশেষ পচে যে কালো বা অনুজ্জ্বল পদার্থ তৈরি হয়, তাকে হিউমাস (Humus) বলে। হিউমাস সমৃদ্ধ মাটি উদ্ভিদের বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করে এবং এটি অত্যন্ত উর্বর।
২. খনিজ পদার্থ ও জীবাশ্ম জ্বালানি
ভূ-ত্বকের নিচে প্রাকৃতিকভাবে নানা প্রকার অজৈব ও মূল্যবান পদার্থ পাওয়া যায়, যেগুলোকে মানুষ কৃত্রিমভাবে তৈরি করতে পারে না। প্রকৃতিতে প্রাপ্ত এসব নির্দিষ্ট উপাদানকে খনিজ পদার্থ বলে। যেমন—চুনাপাথর (ক্যালসিয়াম কার্বনেট), লোহা, তামা, রুপা, সোনা, অ্যালুমিনিয়াম ইত্যাদি। এসব খনিজ সামগ্রী বাড়ি-ঘর তৈরি, যানবাহন, দৈনন্দিন তৈজসপত্র ও শিল্প-কারখানায় ব্যবহৃত হয়।
অন্যদিকে, মাটির নিচে কয়লা, পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া গেলেও এগুলো অজৈব পদার্থ নয়; প্রাচীনকালের বড় বড় উদ্ভিদ ও জলজ জীবের দেহাবশেষ কোটি কোটি বছর ধরে মাটির নিচে চাপা পড়ে উচ্চ তাপ ও চাপে রূপান্তরিত হয়েছে। তাই এদেরকে জীবাশ্ম জ্বালানি (Fossil Fuel) বলা হয়। এই জ্বালানিগুলো পুড়িয়ে উৎপন্ন তাপে বিদ্যুৎ উৎপাদন, যানবাহন পরিচালনা, কলকারখানা সচল রাখা এবং সার ও প্লাস্টিকের মতো প্রয়োজনীয় পণ্য উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে।
উপসংহার
মহাজাগতিক এক মহাবিস্ফোরণের পথ ধরে সৃষ্টি হওয়া আমাদের এই পৃথিবী কোটি কোটি বছরের পরিক্রমায় নানা ভৌত ও রাসায়নিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে এক সুশীতল ও সুষম গ্রহে পরিণত হয়েছে। বায়ুমণ্ডলের সুরক্ষামূলক গ্যাসীয় চাদর, ভূপৃষ্ঠের বিশাল জলরাশি ও উর্বর মাটি এবং ভূ-অভ্যন্তরের স্থিতিশীল গঠন—সবকিছু মিলেই পৃথিবীকে মহাবিশ্বের বুকে একমাত্র জীবনধারণোপযোগী গ্রহে পরিণত করেছে। পৃথিবীর গঠন ও এর অভ্যন্তরের পরিবর্তনশীল প্রক্রিয়াগুলো উপলব্ধি করা শুধু বিজ্ঞানচর্চার জন্যই নয়, আমাদের এই বাসভূমিকে রক্ষা করার জন্যও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
সৃজনশীল প্রশ্ন ১
উদ্দীপক:
বিজ্ঞান শিক্ষক ক্লাসে সৌরজগতের উৎপত্তি পড়াতে গিয়ে বললেন, “আজ থেকে প্রায় ১৩.৭ বিলিয়ন বছর পূর্বে এক অভাবনীয় ঘটনার মধ্য দিয়ে মহাবিশ্বের কণিকাসমূহ সৃষ্টি হয়েছিল। পরবর্তীতে প্রায় ৪.৫ বিলিয়ন বছর পূর্বে সূর্যের অবশিষ্ট ধূলিকণা ও গ্যাস একত্রিত হয়ে আমাদের বাসভূমি গঠিত হয়। সৃষ্টির শুরুতে এই গ্রহটি অত্যন্ত উত্তপ্ত থাকলেও কোটি কোটি বছরের পরিক্রমায় এটি শীতল হয়ে জীবের বাসের উপযোগী হয়েছে।”
ক. ওজোন গ্যাস কোন স্তরে অবস্থান করে?
খ. চাঁদকে আলোকিত দেখায় কেন?
গ. উদ্দীপকে বর্ণিত প্রাথমিক মহাজাগতিক ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছিল তা পাঠ্যবইয়ের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “সৃষ্টির শুরুর উত্তপ্ত অবস্থা থেকে পৃথিবী কীভাবে জীবের বসবাসযোগ্য গ্রহে পরিণত হলো”—উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
সৃজনশীল প্রশ্ন ২
উদ্দীপক:
দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাফি ভূগোলের একটি মডেল পর্যবেক্ষণ করছিল। সেখানে পৃথিবীর ভেতরকার গঠনকে তিনটি সুস্পষ্ট স্তরে চিহ্নিত করা হয়েছে। শিক্ষক তাকে বললেন, “সবচেয়ে কেন্দ্রের স্তরটি অত্যন্ত উত্তপ্ত এবং এটি প্রধানত ভারী ধাতু দিয়ে গঠিত। তার ঠিক উপরের স্তরটির কিছু অংশ আধা-গলিত অবস্থায় থাকে, যা ভূপৃষ্ঠের নানা প্রাকৃতিক ঘটনার জন্য দায়ী।”
ক. শিলামণ্ডলের বিস্তার ভূপৃষ্ঠ থেকে নিচে কত কিলোমিটার পর্যন্ত?
খ. পর্বতের চূড়ায় উঠলে কৃত্রিম অক্সিজেন নেওয়ার প্রয়োজন হয় কেন?
গ. উদ্দীপকে বর্ণিত পৃথিবীর কেন্দ্রভাগের স্তরটির গঠন ও বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “উদ্দীপকে উল্লেখিত দ্বিতীয় স্তরটি এবং তার উপরিভাগের খণ্ডগুলোর নড়াচড়াই ভূ-পৃষ্ঠে অগ্ন্যুৎপাত ও কম্পনের মূল কারণ”—উক্তিটির যথার্থতা মূল্যায়ন করো।
সৃজনশীল প্রশ্ন ৩
উদ্দীপক:
আবির লক্ষ্য করল, তাদের এলাকায় কয়েকদিন ধরে হালকা ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। টেলিভিশনে খবরে সে দেখতে পেল, জাপানের একটি পাহাড়ি অঞ্চলে ভূ-অভ্যন্তর থেকে গলিত তরল পদার্থ ধোঁয়া ও আগুনের সাথে বাইরে উপচে পড়ছে। তার বাবা তাকে জানালেন, পৃথিবীর উপরিভাগের শক্ত আবরণটি অখণ্ড নয়, বরং কতগুলো চলমান খণ্ডে বিভক্ত এবং এদের পারস্পরিক ঘর্ষণের ফলেই এসব ঘটনা ঘটে।
ক. লাভা কাকে বলে?
খ. ম্যাগমা ও লাভার মধ্যে পার্থক্য বুঝিয়ে লেখো।
গ. উদ্দীপকে জাপানে সংঘটিত প্রাকৃতিক ঘটনাটির বৈজ্ঞানিক কারণ ব্যাখ্যা করো।
ঘ. আবিরের এলাকায় অনুভূত ভূমিকম্পের জন্য দায়ী ভূ-তাত্ত্বিক প্রক্রিয়াটি উদ্দীপক ও পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
সৃজনশীল প্রশ্ন ৪
উদ্দীপক:
কৃষক রমিজ মিয়া জমিতে চাষ দেওয়ার সময় দেখলেন মাটির উপরের স্তরটি বেশ কালো ও নরম। কৃষি কর্মকর্তা তাকে জানালেন, কঠিন শিলা বিভিন্ন প্রাকৃতিক শক্তির প্রভাবে ধীরে ধীরে ভেঙে এবং তাতে নানা উপাদান যুক্ত হয়ে এই স্তর তৈরি হয়েছে। এই কালো উপাদানটি থাকার কারণেই জমির ফসল ভালো হয়।
ক. হিউমাস কী?
খ. নদীর তীরবর্তী এলাকার পলিমাটি ফসল চাষের জন্য উপযোগী কেন?
গ. উদ্দীপকে উল্লেখিত উর্বর মাটি তৈরির পর্যায়ক্রমিক প্রক্রিয়াটি ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “উদ্দীপকের কালো উপাদানটির উপস্থিতি উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও জীবন ধারণে অপরিহার্য”—বিশ্লেষণ করো।
সৃজনশীল প্রশ্ন ৫
উদ্দীপক:
একটি খনি এলাকায় অনুসন্ধান চালিয়ে দুই ধরনের ভূগর্ভস্থ সম্পদ পাওয়া গেল। ‘X’ সম্পদটি হলো চুনাপাথর ও লোহার আকরিক, যা প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হওয়া অজৈব পদার্থ। অন্যদিকে ‘Y’ সম্পদটি হলো কয়লা ও প্রাকৃতিক গ্যাস, যা মাটির নিচে প্রাচীন গাছপালা ও জীবের দেহাবশেষ চাপা পড়ে দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় তৈরি হয়েছে।
ক. চুনাপাথরের রাসায়নিক নাম কী?
খ. কয়লা ও পেট্রোলিয়ামকে খনিজ পদার্থ বলা হয় না কেন?
গ. উদ্দীপকের ‘X’ উপাদানগুলোর ব্যবহার ও মানবজীবনে এদের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো।
ঘ. শিল্প ও দৈনন্দিন জীবনে জ্বালানি হিসেবে উদ্দীপকের ‘Y’ উপাদানের ভূমিকা মূল্যায়ন করো।
বহুনির্বাচনি প্রশ্ন (MCQ)
১. বিজ্ঞানীদের ধারণা অনুযায়ী প্রায় কত বছর পূর্বে মহাবিস্ফোরণের মাধ্যমে মহাবিশ্বের সৃষ্টি হয়েছিল?
ক) ৪.৫ বিলিয়ন বছর
খ) ১৩.৭ বিলিয়ন বছর
গ) ১০.৫ বিলিয়ন বছর
ঘ) ২৫ বিলিয়ন বছর
সঠিক উত্তর: খ) ১৩.৭ বিলিয়ন বছর
২. প্রাচীন চীনের রূপকথায় কার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ থেকে মহাবিশ্বের সবকিছু সৃষ্টির কথা বলা হয়েছে?
ক) এক দেবতার
খ) এক পরীর
গ) এক দৈত্যের
ঘ) এক সাপের
সঠিক উত্তর: গ) এক দৈত্যের
৩. সূর্য সৃষ্টির অবশিষ্ট ধূলিকণা ও গ্যাস একত্রিত হয়ে কত বছর পূর্বে পৃথিবী সৃষ্টি হয়েছিল?
ক) প্রায় সাড়ে চার বিলিয়ন বছর পূর্বে
খ) প্রায় দশ বিলিয়ন বছর পূর্বে
গ) প্রায় তেরো বিলিয়ন বছর পূর্বে
ঘ) প্রায় এক বিলিয়ন বছর পূর্বে
সঠিক উত্তর: ক) প্রায় সাড়ে চার বিলিয়ন বছর পূর্বে
৪. মহাবিশ্ব ক্রমাগত প্রসারিত হওয়ার পক্ষে বিজ্ঞানীদের সবচেয়ে বড় পর্যবেক্ষণ কোনটি?
ক) গ্রহগুলোর আকার বৃদ্ধি পাওয়া
খ) গ্যালাক্সি ও তারাসমূহের পরস্পর থেকে দূরে সরে যাওয়া
গ) সূর্যের তাপমাত্রা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাওয়া
ঘ) চাঁদের দূরত্ব কমে যাওয়া
সঠিক উত্তর: খ) গ্যালাক্সি ও তারাসমূহের পরস্পর থেকে দূরে সরে যাওয়া
৫. সূর্যে কোন গ্যাসের সংযোজনের ফলে বিপুল পরিমাণ তাপ ও আলো উৎপন্ন হয়?
ক) নাইট্রোজেন
খ) অক্সিজেন
গ) হাইড্রোজেন
ঘ) কার্বন ডাই-অক্সাইড
সঠিক উত্তর: গ) হাইড্রোজেন
৬. সূর্য পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে প্রায় কত গুণ বড়?
ক) প্রায় দশ লক্ষ গুণ
খ) প্রায় বারো লক্ষ গুণ
গ) প্রায় তেরো লক্ষ গুণ
ঘ) প্রায় পনেরো লক্ষ গুণ
সঠিক উত্তর: গ) প্রায় তেরো লক্ষ গুণ
৭. চাঁদের আয়তন পৃথিবীর আয়তনের প্রায় কত ভাগ?
ক) চার ভাগের এক ভাগ
খ) দশ ভাগের এক ভাগ
গ) পঁচিশ ভাগের এক ভাগ
ঘ) পঞ্চাশ ভাগের এক ভাগ
সঠিক উত্তর: ঘ) পঞ্চাশ ভাগের এক ভাগ
৮. চাঁদ প্রায় কত সময়ে একবার পৃথিবীকে আবর্তন করে?
ক) ২৭ দিন ৮ ঘণ্টা
খ) ২৯ দিন ১২ ঘণ্টা
গ) ২৮ দিন ৪ ঘণ্টা
ঘ) ৩০ দিন
সঠিক উত্তর: ক) ২৭ দিন ৮ ঘণ্টা
৯. পৃথিবীর উপরিভাগের বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে ওজোন গ্যাস অবস্থিত?
ক) ট্রপোস্ফিয়ার
খ) স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার
গ) মেসোস্ফিয়ার
ঘ) থার্মোস্ফিয়ার
সঠিক উত্তর: খ) স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার
১০. ভূপৃষ্ঠ থেকে ট্রপোস্ফিয়ারের বিস্তার ওপরের দিকে প্রায় কত কিলোমিটার পর্যন্ত?
ক) ৮ কিমি
খ) ১২ কিমি
গ) ২০ কিমি
ঘ) ৫০ কিমি
সঠিক উত্তর: খ) ১২ কিমি
১১. পৃথিবীপৃষ্ঠের মোট অংশের মধ্যে জলভাগের অনুপাত কত?
ক) প্রায় এক-চতুর্থাংশ
খ) প্রায় অর্ধেক
গ) প্রায় তিন-চতুর্থাংশ
ঘ) প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ
সঠিক উত্তর: গ) প্রায় তিন-চতুর্থাংশ
১২. শিলামণ্ডল ভূপৃষ্ঠ থেকে ভূ-অভ্যন্তরের দিকে প্রায় কত কিলোমিটার গভীর পর্যন্ত বিস্তৃত?
ক) ৫০ কিমি
খ) ৭০ কিমি
গ) ১০০ কিমি
ঘ) ২৯০০ কিমি
সঠিক উত্তর: খ) ৭০ কিমি
১৩. কেন্দ্রমণ্ডলে প্রধানত কোন ভারী ধাতুগুলো উত্তপ্ত অবস্থায় রয়েছে?
ক) তামা, দস্তা ও রুপা
খ) অ্যালুমিনিয়াম ও সিলিকন
গ) সোনা ও প্লাটিনাম
ঘ) নিকেল, লোহা ও সীসা
সঠিক উত্তর: ঘ) নিকেল, লোহা ও সীসা
১৪. আগ্নেয়গিরির উদগীরণের লাভা প্রধানত ভূ-অভ্যন্তরের কোন স্তর থেকে উৎপন্ন হয়?
ক) শিলামণ্ডলের উপরের অংশ
খ) কেন্দ্রমণ্ডলের ভেতরের অংশ
গ) গুরুমণ্ডলের আধা-গলিত অংশ
ঘ) ভূতত্ত্বের কঠিন স্তর
সঠিক উত্তর: গ) গুরুমণ্ডলের আধা-গলিত অংশ
১৫. ভূ-অভ্যন্তরে থাকা উত্তপ্ত গলিত শিলাকে কী বলা হয়?
ক) লাভা
খ) ম্যাগমা
গ) হিউমাস
ঘ) ব্যাসাল্ট
সঠিক উত্তর: খ) ম্যাগমা
১৬. প্লেট টেকটোনিক তত্ত্বে শিলামণ্ডলের প্লেটগুলো কার ওপর ভাসমান থাকে?
ক) কেন্দ্রমণ্ডলের ওপর
খ) সমুদ্রের পানির ওপর
গ) গুরুমণ্ডলের আংশিক তরল অংশের ওপর
ঘ) বায়ুমণ্ডলের ওপর
সঠিক উত্তর: গ) গুরুমণ্ডলের আংশিক তরল অংশের ওপর
১৭. মাটির উপরিভাগে মৃত উদ্ভিদ ও প্রাণীর পচা দেহাবশেষ থেকে তৈরি কালো উপাদানটির নাম কী?
ক) ম্যাগমা
খ) চুনাপাথর
গ) হিউমাস
ঘ) জীবাশ্ম
সঠিক উত্তর: গ) হিউমাস
১৮. চুনাপাথর মূলত কোন রাসায়নিক যৌগ দ্বারা গঠিত?
ক) সোডিয়াম ক্লোরাইড
খ) ক্যালসিয়াম কার্বনেট
গ) ম্যাগনেসিয়াম সালফেট
ঘ) ক্যালসিয়াম অক্সাইড
সঠিক উত্তর: খ) ক্যালসিয়াম কার্বনেট
১৯. বাংলাদেশের কোন অঞ্চলে চুনাপাথরের খনি পাওয়া যায়?
ক) জয়পুরহাট ও সিলেট
খ) চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার
গ) রাজশাহী ও খুলনা
ঘ) ঢাকা ও কুমিল্লা
সঠিক উত্তর: ক) জয়পুরহাট ও সিলেট
২০. নিচের কোনটি খনিজ পদার্থ নয়, বরং একটি জীবাশ্ম জ্বালানি?
ক) লোহা
খ) চুনাপাথর
গ) তামা
ঘ) পেট্রোলিয়াম
সঠিক উত্তর: ঘ) পেট্রোলিয়াম
“পৃথিবীর উৎপত্তি ও গঠন” সম্পর্কিত ১০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও সেগুলোর বিশদ উত্তর নিচে দেওয়া হলো:
১. মহাবিশ্ব ও পৃথিবী সৃষ্টির মূল বৈজ্ঞানিক ভিত্তি বা প্রক্রিয়াটি কী?
আধুনিক বিজ্ঞানের তথ্য-প্রমাণ অনুযায়ী, মহাবিস্ফোরণ বা ‘বিগ ব্যাং’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই মহাবিশ্বের সূচনা হয়েছিল। আজ থেকে প্রায় ১৩৭০ কোটি বা ১৩.৭ বিলিয়ন বছর পূর্বে একটি অসীম ঘন ও অতি উত্তপ্ত বিন্দুভরে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ঘটে। এর ফলে অতি ক্ষুদ্র পদার্থ কণা সৃষ্টি হয়ে স্থানজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। কালক্রমে সেই কণাগুলো শীতল ও পুঞ্জীভূত হয়ে বিভিন্ন জ্যোতিষ্ক ও ছায়াপথ তৈরি করে। পরবর্তীতে আজ থেকে প্রায় সাড়ে চার বিলিয়ন বছর পূর্বে সূর্য সৃষ্টির অবশিষ্ট ধূলিকণা ও গ্যাসীয় উপাদান মহাকর্ষ বলের প্রভাবে পুঞ্জীভূত হয়ে আমাদের পৃথিবী সৃষ্টি করে। এভাবেই ধূলিমেঘ থেকে সৌরজগতে পৃথিবীর উৎপত্তি ঘটে।
২. সৃষ্টির শুরুর উত্তপ্ত অবস্থা থেকে পৃথিবী কীভাবে জীবের বাসের উপযোগী হলো?
সৃষ্টির শুরুতে পৃথিবী অত্যন্ত উত্তপ্ত ছিল এবং এর উপরিভাগ ফুটন্ত লাভার মতো টগবগ করত। তখন কোনো তরল পানি কিংবা শ্বাস নেওয়ার মতো মুক্ত অক্সিজেন ছিল না। কোটি কোটি বছর ধরে পৃথিবী তাপ বিকিরণ করে শীতল হতে থাকে। ঠান্ডা হওয়ার সময় ভারী উপাদানগুলো পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে চলে যায় এবং হালকা গ্যাসীয় পদার্থগুলো বাইরে এসে আদিম বায়ুমণ্ডল তৈরি করে। বায়ুমণ্ডলের জলীয়বাষ্প ঘনীভূত হয়ে প্রচুর বৃষ্টিপাতের মাধ্যমে মহাসমুদ্র গঠন করে। পরবর্তীতে বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেন ও নাইট্রোজেনের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় অনুকূল তাপমাত্রায় পৃথিবীতে জীবের টিকে থাকার উপযোগী পরিবেশ গড়ে ওঠে।
৩. সূর্য ও চন্দ্রের সাথে পৃথিবীর মূল পার্থক্য ও পারস্পরিক সম্পর্ক কী?
সূর্য হলো সৌরজগতের কেন্দ্রস্থিত একটি নক্ষত্র, যা হাইড্রোজেন গ্যাসের সংযোজনের মাধ্যমে প্রচুর নিজস্ব আলো ও উত্তাপ তৈরি করে। পৃথিবী হলো সূর্যকে কেন্দ্র করে আবর্তিত আটটি গ্রহের একটি গোলকাকার গ্রহ। পৃথিবীর নিজস্ব কোনো আলো বা তাপ নেই, তাই জীবনের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে এটি সূর্যের শক্তির ওপর নির্ভরশীল। অন্যদিকে, চাঁদ হলো পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ, যা প্রায় ২৭ দিন ৮ ঘণ্টায় পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে। চাঁদেরও নিজস্ব আলো নেই, সূর্যের আলো প্রতিফলিত হয়ে চাঁদকে আলোকিত দেখায়। আয়তনে সূর্য পৃথিবীর তেরো লক্ষ গুণ বড়, আর চাঁদ পৃথিবীর পঞ্চাশ ভাগের এক ভাগ মাত্র।
৪. পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের প্রধান স্তরগুলো কী এবং এগুলোর গুরুত্ব কী?
ভূপৃষ্ঠকে বেষ্টন করে থাকা বায়বীয় অংশটিই বায়ুমণ্ডল, যা প্রধানত নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন দিয়ে তৈরি। ভূপৃষ্ঠের সবচেয়ে কাছের স্তরটি হলো ‘ট্রপোস্ফিয়ার’, যা প্রায় ১২ কিমি পর্যন্ত বিস্তৃত। এই স্তরে প্রয়োজনীয় গ্যাস, ধূলিকণা ও মেঘ থাকে এবং আবহাওয়া পরিবর্তন ঘটে। ট্রপোস্ফিয়ারের ঠিক ওপরে প্রায় ৫০ কিমি পর্যন্ত বিস্তৃত স্তরকে ‘স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার’ বলে। এই স্তরে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘ওজোন’ গ্যাসের আস্তরণ রয়েছে। ওজোন গ্যাস সূর্য থেকে আসা ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে জীবজগৎকে রক্ষা করে। মাধ্যাকর্ষণের কারণে বায়ুর ঘনত্ব ভূপৃষ্ঠের কাছেই সবচেয়ে বেশি থাকে।
৫. ভূপৃষ্ঠের প্রাকৃতিক কাঠামো ও নদী সৃষ্টির মূল কারণ কী?
আমরা যে পৃষ্ঠে বসবাস করি তা ভূপৃষ্ঠ, যার প্রায় চার ভাগের তিন ভাগ পানি ও এক ভাগ স্থলভাগ। ভূপৃষ্ঠ জুড়ে রয়েছে বিশাল বিশাল মহাসাগর, সাগর, হ্রদ ও নদনদী। সাধারণত পর্বতের চূড়ায় জমে থাকা বরফ গলে এবং বৃষ্টির পানির ঢাল বেয়ে নিচের দিকে প্রবাহিত হয়ে নদীর সৃষ্টি হয়। যেমন হিমালয় পর্বতমালার বরফগলা পানি এবং বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটানের প্রচুর বৃষ্টির পানি একত্রিত হয়ে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার মতো বড় বড় নদীর রূপ ধারণ করেছে। পরিশেষে এসব নদীর পানি সাগরে গিয়ে পতিত হয়।
৬. পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ স্তর কয়টি এবং তাদের মূল বৈশিষ্ট্য কী?
পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ গঠন প্রধানত তিনটি স্তরে বিভক্ত—শিলামণ্ডল, গুরুমণ্ডল ও কেন্দ্রমণ্ডল। ভূপৃষ্ঠের নিচে প্রায় ৭০ কিমি পর্যন্ত বিস্তৃত স্তরটি শিলামণ্ডল, যা কঠিন মাটি ও পাথরে গঠিত। এর নিচে রয়েছে গুরুমণ্ডল, যার বেশিরভাগ অংশ কঠিন হলেও ভেতরের কিছু অংশ আধা-গলিত অবস্থায় থাকে। সবচেয়ে কেন্দ্রভাগে রয়েছে প্রায় ২৯০০ কিমি ব্যাসার্ধের কেন্দ্রমণ্ডল। এটি নিকেল, লোহা ও সীসার মতো ভারী ধাতু দিয়ে গঠিত। কেন্দ্রমণ্ডলের ভেতরের অংশ কঠিন হলেও বাইরের অংশ অত্যন্ত উত্তপ্ত গলিত অবস্থায় অবস্থান করছে, কারণ সৃষ্টির আদিম তাপ ভেতর থেকে বের হতে পারেনি।
৭. প্লেট টেকটোনিক তত্ত্ব কী এবং এটি কীভাবে কাজ করে?
প্লেট টেকটোনিক তত্ত্ব অনুসারে, ভূপৃষ্ঠের নিচের শিলামণ্ডল কোনো অখণ্ড একক স্তর নয়, বরং এটি একাধিক শক্ত খণ্ডে বিভক্ত, যেগুলোকে টেকটোনিক প্লেট বলে। এই প্লেটগুলো নিচের গুরুমণ্ডলের আংশিক তরল ও গলিত স্তরের ওপর অত্যন্ত ধীরগতিতে ভাসমান অবস্থায় অবস্থান করে। ভূ-অভ্যন্তরীণ তাপপ্রবাহের কারণে প্লেটগুলো প্রতি বছর কোনো একদিকে কয়েক সেন্টিমিটার স্থান পরিবর্তন করে। কখনো এরা পরস্পরের কাছাকাছি আসে, দূরে সরে যায়, কিংবা সামান্য উপরে-নিচে ওঠানামা করে। এই প্লেটগুলোর নড়াচড়া ও পারস্পরিক সংস্পর্শই ভূপৃষ্ঠের বড় বড় ভৌগোলিক পরিবর্তনের প্রধান কারণ।
৮. ভূমিকম্প এবং আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত কীভাবে ঘটে?
টেকটোনিক প্লেটগুলোর সীমানায় নড়াচড়া ও সংঘর্ষের ফলে ভূমিকম্প ও অগ্ন্যুৎপাত ঘটে। যখন দুটি প্লেট পরস্পরের সাথে সজোরে ধাক্কা খায়, তখন ভূত্বক কেঁপে ওঠে, যাকে ভূমিকম্প বলা হয়। আবার প্লেটগুলোর ঘষা বা সংঘর্ষের সংযোগস্থলে প্রচণ্ড তাপ ও চাপের সৃষ্টি হয়। এই তাপে ভূ-অভ্যন্তরের কঠিন শিলা গলে গিয়ে ‘ম্যাগমা’ নামক তরলে পরিণত হয়। ভূগর্ভের তীব্র চাপে এই ম্যাগমা দুর্বল স্থান বা ফাটল ভেদ করে ভূপৃষ্ঠের বাইরে বেরিয়ে এলে তাকে অগ্ন্যুৎপাত বলে এবং বাইরে বের হওয়া গলিত তরলকে ‘লাভা’ বলা হয়।
৯. শিলা থেকে উর্বর মাটি কীভাবে তৈরি হয় এবং হিউমাসের ভূমিকা কী?
কঠিন শিলা থেকে মাটি তৈরি হয় দুটি ধারাবাহিক পর্যায়ে। প্রথম পর্যায়ে দীর্ঘকাল ধরে রোদ, বৃষ্টি, ঝড় ও ভূকম্পনের প্রভাবে কঠিন শিলা চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র শিলাকণায় রূপান্তরিত হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে সেই শিলাকণার সাথে পানি, বাতাস, অণুজীব ও জৈব দেহাবশেষ মিশ্রিত হয়ে নরম মাটি গঠিত হয়। মাটির উপরিস্তরে মৃত উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহাবশেষ পচে যে কালো রঙের জৈব উপাদান তৈরি করে, তাকে হিউমাস বলে। হিউমাস উদ্ভিদের বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করে মাটিকে ফসল চাষের উপযোগী ও অত্যন্ত উর্বর করে তোলে।
১০. খনিজ পদার্থ ও জীবাশ্ম জ্বালানির মধ্যে মূল পার্থক্য কী?
ভূত্বকে প্রাকৃতিকভাবে প্রাপ্ত অজৈব ও নির্দিষ্ট রাসায়নিক বৈশিষ্ট্যযুক্ত উপাদানগুলোকে খনিজ পদার্থ বলে, যা মানুষ কৃত্রিমভাবে বানাতে পারে না। যেমন—চুনাপাথর (ক্যালসিয়াম কার্বনেট), লোহা, তামা, সোনা ইত্যাদি। এগুলো কলকারখানা ও গৃহনির্মাণে বহুল ব্যবহৃত হয়। অপরদিকে, মাটির নিচে পাওয়া কয়লা, তেল বা প্রাকৃতিক গ্যাস কোনো অজৈব খনিজ নয়। প্রাচীনকালের বৃক্ষ ও প্রাণীর দেহাবশেষ কোটি কোটি বছর মাটির নিচে চাপা পড়ে উচ্চ তাপ ও চাপে রূপান্তরিত হয়ে জীবাশ্ম জ্বালানি গঠন করেছে। এগুলো পুড়িয়ে উৎপাদিত তাপশক্তি দিয়ে বিদ্যুৎ, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও যানবাহন সচল রাখা হয়।
Comments